ভারতের স্পাইসজেট এয়ারলাইন্সকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

বকেয়া এয়ার নেভিগেশন ও ওভারফ্লাইট চার্জ পরিশোধ না করায় ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার থেকে নিষিদ্ধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ।  গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সংস্থাটির কোনো উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করছিল না স্পাইসজেট। বকেয়া পরিশোধের জন্য একাধিকবার তাগাদা ও নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেয় সিএএবি।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে গন্তব্যে পৌঁছাতে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয় এবং নিরাপত্তা ইস্যু ছাড়া সাধারণত কোনো দেশ তা বাধাগ্রস্ত করে না। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে উড়োজাহাজের ধরন ও ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে ওভারফ্লাইট চার্জ পরিশোধ করতে হয়, যা সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।

ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটির পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দ্রুততম রুট হিসেবে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি ভারতীয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ঢাকার ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নের (এফআইআর) আওতাধীন আকাশপথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি, শিলচর, আগরতলা, শিলং ও মনিপুরগামী ফ্লাইটগুলো এ রুটের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারলে এসব ফ্লাইটকে দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় ও জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা থেকে গুয়াহাটি, শিলচর ও আগরতলাগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশ এড়িয়ে বিকল্প রুটে চলাচল করছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি সংস্থাটির পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে স্পাইসজেট বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে সংস্থাটি প্রায় ২৭০ কোটি রুপি নিট লোকসানের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠানটির জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্পাইসজেট জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের আশাবাদও ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

  • স্পাইজেট