ফের বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা খুলে দিচ্ছে ভারত?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা কার্যক্রম ফের চালু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়, যা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে দুই দেশের আকাশপথে যাত্রী চলাচলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশও ভারতের নাগরিকদের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। ফলে সামগ্রিকভাবে দুই দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিমান চলাচল, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটন খাতে।

যাত্রী সংকটের কারণে বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ার তাদের ঢাকা-কলকাতা ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। ঢাকা-কলকাতা রুটেও সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় প্রায়ই শিডিউল বাতিল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ভারতগামী ফ্লাইট প্রায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে নামমাত্র পর্যায়ে পরিচালনা করছে।

ভারতের দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইসহ গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভারতগামী যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কূটনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কলকাতাকেন্দ্রিক পর্যটন ও খুচরা ব্যবসায়ও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশি পর্যটক ও ক্রেতাদের অনুপস্থিতিতে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত নিউ মার্কেট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মারকুইস স্ট্রিটসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক মন্দা দেখা দেয়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু এই অঞ্চলেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি রুপির বেশি। সামগ্রিকভাবে কলকাতার ব্যবসায়ীদের ক্ষতি প্রায় পাঁচ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ঈদের আগেই দুই দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে পারে। ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে আকাশপথে যাত্রী সংকট দ্রুত কাটবে এবং স্থগিত ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে গতি পেলে তা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই সুফল বয়ে আনবে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • ভারতীয় ভিসা