ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ড অঞ্চলের আটজন সংসদ সদস্য (এমপি)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন পল ওয়াহ (রচডেল), আফজাল খান (ম্যানচেস্টার রাশোলম), অ্যান্ড্রু গুইন (গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন), জিম ম্যাকমাহন (ওল্ডহ্যাম ওয়েস্ট, চাডারটন অ্যান্ড রয়টন), ডেবি আব্রাহামস (ওল্ডহ্যাম ইস্ট অ্যান্ড স্যাডলওয়ার্থ), সারাহ হল (ওয়ারিংটন সাউথ), নবেন্দু মিশ্র (স্টকপোর্ট) ও জেফ স্মিথ (ম্যানচেস্টার উইথিংটন)।
চিঠিটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাফিউল আজিমের কাছে পাঠানো হয়। পাশাপাশি এর একটি অনুলিপি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।
এমপিরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ম্যানচেস্টার–সিলেট রুটটি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরাসরি যোগাযোগ মাধ্যম। অসুস্থ স্বজনকে দেখতে যাওয়া, জরুরি চিকিৎসা, মৃত্যুজনিত সফরসহ পারিবারিক নানা প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক যাত্রী নিয়মিত এই ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বুকিং সিস্টেমে ম্যানচেস্টার–সিলেট ফ্লাইটটি আর প্রদর্শিত হচ্ছে না। অথচ এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে বলেও তারা জানান।
তাঁদের মতে, বিকল্প ইনডিরেক্ট ফ্লাইটগুলো একদিকে যেমন অতিরিক্ত ব্যয়বহুল, অন্যদিকে তেমনি বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য শারীরিকভাবে কষ্টকর।
চিঠিতে এমপিরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান—ম্যানচেস্টার–সিলেট রুট বর্তমান অবস্থা জানানো, রুট স্থগিতের সম্ভাব্য কারণ কী এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রুটটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এমপিদের মতে, সামাজিক ও মানবিক গুরুত্বের পাশাপাশি নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ড অঞ্চলের জন্য এই রুটটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে।
