গেলো অর্থবছরে রেকর্ড সাড়ে ১১ হাজার কোটি আয় বিমানের

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স@সম্পাদিত

দেশের একমাত্র জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আবারও লাভের মুখ দেখেছে। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে রাষ্ট্রীয় এই এয়ারলাইন্স। কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই নিজস্ব আয় ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিমান গড়েছে নতুন রেকর্ড।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর বাদ দিয়ে বিমানের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অর্থবছরে বিমানের মোট আয় ছিল ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১০ বছরের মধ্যে ৯ বছরই লাভ করেছে বিমান, আর এবার টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সংস্থাটি।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিমান ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে ৩৩ লক্ষাধিক যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ বেশি। এছাড়া বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটের ৬১ লাখের বেশি যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে বিমান।

এছাড়াও সাফল্যের এই পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কার্গো শাখা। যাত্রী পরিবহনে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম হলেও কার্গো ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে এসেছে বড় অঙ্কের রাজস্ব। বিমানের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ম্যানেজমেন্টের কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ডও গড়েছে সংস্থাটি।

তবে এই সাফল্যের গল্পের আড়ালে রয়েছে এক বড় বিতর্ক। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, বিমানের কাছে তাদের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে মূল বিল বকেয়া ৫৫৫ কোটি টাকা, ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ ৫১৬ কোটি টাকা, আর সময়মতো পরিশোধ না করায় সারচার্জ জমেছে প্রায় ৪ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা।

এছাড়াও বেবিচকের অভিযোগ, বিমান নিয়মিতভাবে প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট সরবরাহ না করায় এম্বারকেশন ও নিরাপত্তা ফি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক ল্যান্ডিং চার্জ পরিশোধে পুরনো ও কম ডলার রেট ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের হিসাবে বেবিচকের কাছে বকেয়া মাত্র ৩৭১ কোটি টাকা। ফলে দুই সংস্থার দাবির মধ্যে তৈরি হয়েছে হাজার কোটি টাকারও বেশি পার্থক্য।

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স