সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মাত্র ২০ হাজার টাকায় ঢাকা–সৌদি আরব যাতায়াত করাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মাধ্যমে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রি হবে এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত আয় হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দেশটি ভ্রমণ করেন। এর বাইরে কর্মসংস্থানের জন্যও সৌদি আরব বাংলাদেশিদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। গত বছরই সাড়ে ৭ লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গেছেন।
বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি। কাজের সহজলভ্যতা, পূর্বপরিচিত পরিবেশ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রথম পছন্দ। ফলে ঢাকা থেকে জেদ্দা ও রিয়াদ রুট এয়ারলাইন্সগুলোর সবচেয়ে ব্যস্ত রুটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লাভজনক রুটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা–জেদ্দা রুট।
ব্যস্ততার কারণেই এই রুটগুলোতে টিকিটের দাম দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক বেশি। এতে প্রবাসী কর্মীদের বাড়তি আর্থিক চাপ বহন করতে হয়। তবে এবার সেই চাপ কমাতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিমান।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি আরব–বাংলাদেশ রুটে একমুখী টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে একে প্রবাসীবান্ধব ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রবাসীরা কম খরচে পরিবার–পরিজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
এই বিশেষ সুবিধা সৌদি প্রবাসীরা দেশে ফেরার ক্ষেত্রে পাবেন আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার সময় এই সুবিধা কার্যকর থাকবে ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পবিত্র হজের মৌসুমে সাধারণত বিমান একমুখী যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে সৌদি যাওয়া ও ফেরার পথে অনেক ফ্লাইট প্রায় ফাঁকা অবস্থায় চলাচল করে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে সেই ফাঁকা ফ্লাইটগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া মদিনা–ঢাকা–মদিনা এবং জেদ্দা–ঢাকা–জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।
এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানান।
এবিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি সতর্ক করেন, প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সঠিক তদারকির মাধ্যমে শতভাগ কার্যকর রাখা হয়।
