ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগোর ফ্লাইট পরিষেবায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে। এই সমস্যার কারণ অনুসন্ধানে ডিজিসিএ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গত মাসে ইন্ডিগোর ফ্লাইট পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কর্মীসংকটসহ নানা সমস্যার কারণে ডিসেম্বরের ৩ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে এয়ারলাইনটি প্রায় আড়াই হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই সময়ে ১৮৫০টিরও বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ওঠানামা করে। এই বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে ডিজিসিএ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ।
শনিবার এক বিবৃতিতে ডিজিসিএ জানায়, ইন্ডিগোর ফ্লাইট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রাথমিক কারণগুলির মধ্যে ছিল অপারেশনে অতিরিক্ত ‘অপ্টিমাইজেশন’, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব এবং সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তায় ঘাটতি। পাশাপাশি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বিমান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পরিচালন নিয়ন্ত্রণেও ত্রুটি ছিল।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ইন্ডিগো তাদের পরিকল্পনার দুর্বল দিকগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি এবং সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL)–এর নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলেই ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয় এবং কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। এসব কারণে ইন্ডিগোর ওপর ২২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ তাদের পক্ষের ত্রুটি স্বীকার করেছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ও বোর্ড অফ ডিরেক্টরসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিসিএর দেওয়া নির্দেশনাগুলি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে সুচিন্তিত ও সময়োপযোগীভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ওই বিপর্যয়ের পর পুরো বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছে।
