টিকিট বিক্রিতে সব ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার।
যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা বা হয়রানি করলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান কঠোর শাস্তির এ বিধান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আইনি দুর্বলতার কারণে গত ১৬ বছরে দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছিলেন বিদেশগামীরা। দেশের আকাশপথে যাত্রীদের ৮০ শতাংশের বেশি অভিবাসী কর্মী। নতুন দুটি অধ্যাদেশ কার্যকর হলে এ বিশাল যাত্রীগোষ্ঠীসহ সাধারণ যাত্রীদের সেবা হবে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব।
আরেকটি অধ্যাদেশ সরকারকে একটি ‘বেসামরিক বিমান চলাচল অর্থনৈতিক কমিশন’ গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে—যা বিমানবন্দরের ফি, চার্জ, রয়্যালটি ও ভাড়া নির্ধারণে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী কোনো ট্রাভেল এজেন্সি আরেক ট্রাভেল এজেন্সির কাছে বিক্রি করা যাবে না, ফলে টিকিট বিক্রির আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ রুদ্ধ হবে।
বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করে নতুন অধ্যাদেশে নিবন্ধন সনদ বাতিল বা স্থগিতের ১১টি নতুন কারণ যুক্ত করা হয়েছে। অবৈধ টিকিট বিক্রয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত লেনদেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, গ্রুপ বুকিং টিকেটিংয়ের ক্ষেত্রে টিকিট কনফার্মের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তনকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ফারহিম ভীমা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করে নতুন অধ্যাদেশে নিবন্ধন সনদ বাতিল বা স্থগিতের ১১টি নতুন কারণ যুক্ত করা হয়েছে। অবৈধ টিকিট বিক্রয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত লেনদেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, গ্রুপ বুকিং টিকেটিংয়ের ক্ষেত্রে টিকিট কনফার্মের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তনকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা বা হয়রানি ঠেকাতে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন অস্থায়ীভাবে স্থগিত করতে পারবে। এছাড়া প্রতারণা বা আর্থিক আত্মসাতের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে ট্রাভেল খাতে অবৈধ অর্থ লেনদেন, মানি লন্ডারিং, টিকিট মজুদ, প্রতারণা ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করার পাশাপাশি বিশেষভাবে অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে।
উপদেষ্টা জানান, টিকিট বিতরণে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস), নিউ ডিস্ট্রিবিউশন ক্যাপাবিলিটি (এনডিসি) এবং এপিআইভিত্তিক ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা টিকিট ব্লকিং, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ করবে।
