গত ৮ এপ্রিল ভারত বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল করার পর প্রথমবারের মতো সিলেট বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট শুরু হয়েছে।আজ সন্ধ্যায় স্পেনের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় কার্গো ফ্লাইটটি।
এর আগে কোন পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ করে বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর থেকেই দেশের বিমানবন্দরগুলোতে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে শুরু হয় তোড়জোড়। তারই ধারাবাহিকতায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হলো কার্গো ফ্লাইট। খুললো সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে প্রথম ‘আরএ-থ্রি’ প্রটোকলসম্পন্ন কার্গো টার্মিনালের যাত্রাও শুরু হলো। ১০০ টন ধারণ ক্ষমতার এই টার্মিনালটি পেয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি। যুক্ত করা হয়েছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় সিলেটের রানওয়েতে অবতারণ করে কুয়েত থেকে উড়ে আসা প্রথম কার্গো ফ্লাইট। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় পণ্য উঠানো। বরাবরের মতো গ্রাউন্ড সার্ভিসের দায়িত্বে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এবিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলছেন, বাংলাদেশ যেন নিজের কার্গো নিজেই রপ্তানি করতে পারে সেই লক্ষ্যেই সিলেটের এই কার্গো টার্মিনালের যাত্রা। শুরুর দিকে সপ্তাহে দুটি করে কার্গো ফ্লাইট চলবে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট শুরু দেশের অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল হবার সঙ্গে সঙ্গেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। জানান, দিল্লী, বেঙ্গালুর ও কোলকাতার থেকেও কম খরচে কার্গো রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।
সিলেট বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চলাচলকে স্বাগত জানিয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মান ধরে রেখে, খরচ কমাতে পারলে কার্গো রপ্তানিতে সিলেট বিমানবন্দর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় ৬০ টন গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে স্পেনের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া এয়ারবাসটিকে দেয়া হয় জলকামান স্যালুট।
