গ্রাউন্ড সার্ভিস আধুনিকায়নে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে ইউএস-বাংলা

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

৫৯০টি গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ১৪৬টি, শাহজালাল বিমানবন্দরে চলবে ৮০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এরই মধ্যে এ খাতে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আরও ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এয়ারক্রাফট পুশব্যাক ট্রাক্টর, টোবার, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্রাক্টর, প্যাসেঞ্জার বোর্ডিং স্টেয়ারস, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক এবং ওয়াটার ও ল্যাভাটরি সার্ভিস ট্রাকসহ বিভিন্ন র‍্যাম্প সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব গ্রাউন্ড অপারেশন নিশ্চিত করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। এসব যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড অপারেশনে ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যবহারের জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের জেএফকে, লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টো পিয়ারসন, লন্ডন হিথ্রো, আমস্টারডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট, দুবাই, দোহা, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, টোকিও নারিতা, হংকং, দিল্লি, সিডনি ও জোহানেসবার্গ।

প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগও নিয়েছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে এয়ারলাইন্সটির বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে আরও প্রায় ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট ও পরিচালন সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

এয়ারলাইন্সটির মতে, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ পরিচালনা শুধু উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে না। আধুনিক গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যবহারের ফলে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

  • ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্স
  • সর্বশেষ