নিউইয়র্ক উড়তে বিমানের বাধা কোথায়?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ঘন্টা আগে

ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক! দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা এই আকাশপথ আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালেই ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে দীর্ঘ এই আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর আগে বাংলাদেশকে পার হতে হবে একাধিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক পরীক্ষার ধাপ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ-এর ক্যাটাগরি-১ নিরাপত্তা মর্যাদা অর্জন।

এফএএ-এর ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট বা আইএএসএ কর্মসূচিতে মূলত যাচাই করা হয়, কোনো দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুযায়ী এয়ারলাইন্সকে লাইসেন্স দেওয়া ও তদারক করার সক্ষমতা রাখে কি না। ফলে শুধু নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করলেই যুক্তরাষ্ট্রের রুটে ফ্লাইট চালানোর সুযোগ তৈরি হবে না। আইন ও বিধিমালা, কারিগরি সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত জনবল, পরিদর্শন ব্যবস্থা, নথিপত্র এবং এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা তদারকির মতো বিষয়েও সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মূল্যায়নও সামনে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাও-এর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম বা ইউএসএপি-সিএমএ অডিট ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা। এই অডিটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।

অডিট সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পৃথক এভিয়েশন সিকিউরিটি এয়ার নেভিগেশন অর্ডার বা এএনও জারি করেছে বেবিচক। আন্তর্জাতিক অডিটে দেশের নিরাপত্তা বিধিমালা ও সেগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

তবে শুধু ২০২৬ সালের নিরাপত্তা অডিট শেষ হলেই নিউইয়র্ক রুট চালুর সব বাধা দূর হচ্ছে না। বেবিচক চেয়ারম্যান জুন মাসে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের নিরাপত্তা অডিটের পাশাপাশি ২০২৭ সালের অক্টোবরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইকাও সেফটি অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণেই সে সময় বেবিচকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সরাসরি নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু ২০২৮ সালের আগে সম্ভব নাও হতে পারে।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের মতো দীর্ঘ রুট পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০২৭ সালের শুরুতে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান। ড্রাই লিজে মূলত শুধু উড়োজাহাজ নেওয়া হয়; ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমার দায়িত্ব থাকে লিজগ্রহীতা এয়ারলাইন্সের ওপর।

এর পাশাপাশি ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে বিমানের। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। নতুন ও লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক রুটে বিমানের প্রস্তুতি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও জমা দিয়েছিল বিমান। সেই পরিকল্পনায় বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ব্যবহারের কথা ছিল এবং রুট হিসেবে ঢাকা–ইজমির–নিউইয়র্ক প্রস্তাব করা হয়েছিল। অর্থাৎ সেটি ছিল মধ্যবর্তী বিরতিসহ এক-স্টপ রুটের পরিকল্পনা।

এখন সরকারের লক্ষ্য সরাসরি ঢাকা–নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করা। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উড়োজাহাজ প্রস্তুতির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশের এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণের সক্ষমতা। শেষ পর্যন্ত এফএএ-এর ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপরই নির্ভর করবে কবে আবার বাংলাদেশের পতাকাবাহী বিমান সরাসরি নিউইয়র্কের আকাশে উড়তে পারবে।

  • ঢাকা-নিউইয়র্ক
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স