হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিল করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৯ মাসের দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও আর্থিক ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এখন আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশনের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ বিষয়ে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনাও হয়। তবে রাজস্ব বণ্টন পদ্ধতি ও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়নি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিভিল এভিয়েশন থেকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে দেশি-বিদেশি যোগ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এ দৌড়ে অংশ নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জাপানি কনসোর্টিয়াম আন্তর্জাতিক চর্চা অনুযায়ী মোট আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ দাবি করছিল। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ভারতের মডেলের মতো নির্দিষ্ট ‘সার্ভিস ফি’ ভিত্তিক কাঠামোয় অনড় ছিল। বাংলাদেশ পক্ষ প্যাসেঞ্জার সার্ভিস ফি ও বাণিজ্যিক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল, যা জাপানি প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতভেদ ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, কিছু শর্ত রাষ্ট্রীয় কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সংবেদনশীল হয়ে ওঠায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনালের কাজ ইতোমধ্যে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দক্ষ অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় এখনো এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। এদিকে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট অপারেটর প্রতিষ্ঠান এ দরপত্রে আগ্রহ দেখাতে পারে বলে জানা গেছে। লন্ডনভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন এবং দুবাইভিত্তিক ডানাটা এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
গত তিন বছরে বেবিচকের চেয়ারম্যান পদে একাধিক পরিবর্তন, নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজের অব্যবস্থাপনা। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির কার্যকর উদ্বোধন বিলম্বিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ দেওয়া গেলে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নজর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়ার দিকে।
