‘দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে’

লেখক: মোঃ শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ১৯ ঘন্টা আগে

দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ না পেয়ে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধেই প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এয়ারলাইন্স অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)-এর সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মফিজুর রহমান।

দেশের ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির প্রথম পলিসি পডকাস্ট ‘চেক ইন বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় পর্বে অতিথি ছিলেন তিনি। পুরো পডকাস্টজুড়ে তিনি দেশের এভিয়েশন খাত, বেসরকারি এয়ারলাইন্স, থার্ড টার্মিনাল, নতুন বিমানবন্দর ও নভোএয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিমানের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে বকেয়া থাকলেও নিয়মিত তা মওকুফ করা হয়। বিপরীতে বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সামান্য বকেয়াও মওকুফ করা হয় না।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, নির্মাণকাজ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদেশি অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না করে তৃতীয় টার্মিনাল চালু না করার পরামর্শ দেন।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের হাতেই থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন মফিজুর রহমান। তাঁর মতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় বিদেশি দক্ষতা নেওয়া যেতে পারে, তবে বাংলাদেশের নিজস্ব জনবলের সক্ষমতার ওপরও আস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করার পরিকল্পনা নিয়েও বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। কক্সবাজার ও বগুড়ায় বড় বিনিয়োগের আগে বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। বগুড়ায় বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে ছোট বিমানবন্দর বা ‘স্টলপোর্ট’ এবং কমিউটার ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মফিজুর রহমান বলেন, নভোএয়ার ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, মাসকাট, শারজা ও দুবাই রুট নিয়ে কাজ করছে।

এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে সিভিল এভিয়েশনে দুর্নীতি বন্ধ, সংস্থাটিকে মূলত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি দক্ষ জনবল তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে তথ্যের ঘাটতি দূর করে যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে বিমানবন্দর ও রুট পরিকল্পনার আহ্বান জানান। বিনিয়োগের রিটার্ন এবং বাজারের সক্ষমতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

দেশের ভ্রমণবিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া ‘চেক ইন’-এ প্রতি শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রচারিত হয় পলিসি পডকাস্ট ‘চেক ইন বাংলাদেশ’। পডকাস্টটির পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা করেন এভিয়েশন বিষয়ক সাংবাদিক নাঈম আবির। পডকাস্টটির প্রযোজনা করেছেন মোঃ শাহানুর রহমান মুকুট।

  • travel based first digital media
  • এয়ারলাইন্স অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)
  • চেক ইন বাংলাদেশ
  • নভোএয়ার
  • পডকাস্ট
  • পলিসি পডকাস্ট
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া