সিন্ডিকেট ঠেকিয়ে অভিবাসন ব্যয় ৩ লাখে নামাতে চায় সরকার

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৩ ঘন্টা আগে

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশিদের অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে সিন্ডিকেট ও অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বিদেশে যেতে একজন কর্মীর ১০ লাখ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সোমবার (১১ আগস্ট) সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলা দৈনিক বণিক বার্তা ও সিঙ্গাপুরের থাকরাল গ্রুপ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রবাসীদের বাংলাদেশের ‘গর্ব ও শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, তাদের উপার্জন যেমন পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে, তেমনি দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করে।

তিনি জানান, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে ৪৭৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা বলেন, প্রবাসী কর্মীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক ‘মাইগ্রেশন উইং’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই উইং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, পুনরায় কর্মসংস্থান, আন্তঃকোম্পানি কর্মী স্থানান্তর এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি হুন্ডি পরিহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় আইন ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের উগ্রবাদী বা বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট এড়িয়ে চলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

বেতন না পাওয়া ও চাকরি হারানোর কারণে সমস্যায় পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সহযোগিতা করায় সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান শামা।

তিনি বলেন, সরকার এক-স্টপ সেবার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের বিনিয়োগ দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত ১৫ জন বিশিষ্ট বাংলাদেশি প্রবাসীকে ‘রেমিট্যান্স ওয়ারিয়র’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুজন কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি) এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি ব্যাংকের অধীনে কার্যরত তিনটি শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ হাউসকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

  • অভিবাসন
  • পররাষ্ট্র নীতি
  • মাইগ্রেশন
  • সর্বশেষ