জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নতুন বোয়িং চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ঢাকা

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের ফাঁকে অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বাংলাদেশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি পরিবর্তনশীল। ফলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন বৈঠক বা চুক্তি যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে যেসব কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছি শুধু সেগুলোই যে অনুষ্ঠিত হবে আর কোনোটি বাদ যাবে না—বিষয়টি মোটেও এমন নয়। একইভাবে, তালিকায় না থাকা নতুন কোনো বৈঠক বা চুক্তিও পরবর্তী সময়ে যুক্ত হতে পারে।’

নিউইয়র্কে ইউএনজিএর ফাঁকে নতুন কোনো বোয়িং চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এটি পরিবর্তনশীল সূচি, তাই সব ধরনের পথ ও সম্ভাবনাই খোলা থাকছে।’

তবে অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেননি।

৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পর আরও ১১ বিমান

চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর বাইরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আরও বড় করতে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ঢাকা। এই ক্রয় সম্পন্ন হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের কেনা মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে।

তবে প্রস্তাবিত ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়নের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের পর বাড়ে আলোচনা

অতিরিক্ত বোয়িং কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত ৩০ আগস্ট ওয়াশিংটনে। সে সময় মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত বোয়িং বিক্রির বিষয়ে ‘আরেকটি অবিশ্বাস্য চুক্তিতে’ পৌঁছেছেন।

পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি চিঠি পাঠিয়ে বোয়িং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং শিগগিরই বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর ঢাকার প্রতিক্রিয়া ছিল সতর্ক। প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সার্জিও গোর সম্ভবত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কথাই উল্লেখ করেছেন।

পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, কোনো দেশের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের কারণে নয়; দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এয়ারবাসের সঙ্গেও চলছে আলোচনা

বোয়িংয়ের পাশাপাশি ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পৃথক পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রস্তাবিত বহরে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিউ।

বোয়িং ও এয়ারবাসের প্রস্তাবিত দুই ক্রয় পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন করে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৯টি।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, সফরকালে জাতিসংঘ অধিবেশনকেন্দ্রিক কর্মসূচিগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এর বাইরে নতুন বৈঠক বা চুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক সফরের সময় অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।

  • বিমান-বোয়িং চুক্তি
  • বোয়িং
  • সর্বশেষ