বিদেশি বিমান এখন মেরামত হচ্ছে বাংলাদেশে

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

একসময় উড়োজাহাজের ভারী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশকে নির্ভর করতে হতো বিদেশের ওপর। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে এখন শুধু দেশের নয়, বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজও ভারী রক্ষণাবেক্ষণ বা সি-চেক করাতে আসছে। এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিক এমআরও সুবিধা। আন্তর্জাতিক মানের হ্যাঙ্গারে এখন বোয়িং ৭৩৭, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের জটিল রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সি-চেক হলো একটি উড়োজাহাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট ফ্লাইট ঘণ্টা বা নির্ধারিত সময় পর বিমানকে কয়েক সপ্তাহের জন্য সেবা থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা হয়। এ সময় কেবিনের বড় অংশ খুলে ফেলা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ফিউজলাজ, ল্যান্ডিং গিয়ার, হাইড্রোলিক সিস্টেম, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উপাদান বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়।

আগে এই ধরনের কাজের জন্য বাংলাদেশি উড়োজাহাজগুলোকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা ইউরোপের বিভিন্ন এমআরও কেন্দ্রে পাঠাতে হতো। এতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিমান পরিচালনার বাইরে থাকায় এয়ারলাইন্সগুলোকেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।

বর্তমানে দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতার কারণে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজও বাংলাদেশে ভারী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আসতে শুরু করেছে, যা দেশের এমআরও খাতের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে সি-চেক সম্পন্ন করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন আয়ের উৎসও তৈরি হচ্ছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে এমআরও খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়ছে, পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী এমআরও শিল্প বর্তমানে বহু বিলিয়ন ডলারের বাজার। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এই বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রতিযোগিতা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশও ধীরে ধীরে সেই বাজারে জায়গা করে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে। তবে এর জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং আরও বেশি বিদেশি এয়ারলাইন্সকে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

একসময় যে বাংলাদেশ নিজস্ব উড়োজাহাজের ভারী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল, আজ সেই বাংলাদেশই বিদেশি উড়োজাহাজের সি-চেক সম্পন্ন করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এভিয়েশন খাতের এই নীরব অগ্রগতি ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স