লাগেজ খুললেই লাগাতে হবে সিল, বিমানবন্দরে নতুন নিয়ম

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ১১ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাত্রী ও লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিআইপি ও সিআইপি এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অননুমোদিত ড্রোন প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এসব সিদ্ধান্তে। আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওয়ের নিরাপত্তা অডিট সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে এসব উদ্যোগ।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জসংলগ্ন গাড়ি পার্কিং এলাকায় স্থাপন করা হবে ‘আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেম’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষা করে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভিআইপি ও সিআইপি যাত্রীদের কাস্টমস স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় না দিয়ে নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিআইপি ও সিআইপি ইমিগ্রেশন এলাকায় অননুমোদিত প্রটোকল প্রদানকারীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা। এখন থেকে মিশনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের প্রটোকল সুবিধা পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে বিদেশি দূতাবাসগুলোকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইমিগ্রেশন এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতেও নতুন নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে কোনো যাত্রীর লাগেজ খোলা হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টকে সেখানে নির্ধারিত সিল বা ট্যাগযুক্ত স্টিকার লাগাতে হবে। এতে যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, তাঁদের লাগেজটি কোন প্রস্থান বা ট্রানজিট বিমানবন্দরে খোলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ ব্যবস্থা লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্তে সহায়তা করবে।

বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে দ্রুত অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি বা এসওপি প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এসওপি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা কমিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।

নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরেও। সম্প্রসারিত রানওয়ের কারণে সমুদ্রের মধ্যে স্থাপন করা প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরি রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গোর ওপর থেকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ কার্গো ও মেইল-সংক্রান্ত তকমা প্রত্যাহারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো পরিবহনে বিদ্যমান বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা, ড্রোন প্রতিরোধ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ১১ দফা সিদ্ধান্তে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে সিদ্ধান্তগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর