কক্সবাজার-পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালাবে এয়ার এশিয়া

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে

কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। মালয়েশিয়ার বাজেট এয়ারলাইন এয়ার এশিয়া কক্সবাজার-পেনাং রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ফ্লাইট শুরুর তারিখ ও সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এয়ার এশিয়ার এই আগ্রহকে আন্তর্জাতিক রুট চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, কক্সবাজারকে শুধু দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

এয়ার এশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকেও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটের পরিকল্পনা

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার-কাঠমান্ডু সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এসব আন্তর্জাতিক রুট চালু হলে বিদেশি পর্যটক আগমন বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, পর্যটনসেবা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও।

বাড়ছে বিমানবন্দরের সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। টার্মিনালে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, এসকেলেটর, লিফট ও বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ায় বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু না হওয়া পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদেরও সেবা দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনাল দিয়ে পরিচালনা করা হবে।

দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে কক্সবাজারে

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে।

বর্ধিত রানওয়েটি দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে এবং ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় আকৃষ্ট করাই এখন মূল বিষয়। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর ফি, যাত্রী চাহিদা, পর্যটন অবকাঠামো এবং কক্সবাজারের সামগ্রিক গন্তব্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এয়ার এশিয়ার কক্সবাজার-পেনাং রুটের সম্ভাব্য যাত্রা তাই শুধু একটি নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নয়; কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দেখছে সরকার।

  • এয়ার এশিয়া
  • কক্সবাজার বিমানবন্দর
  • কক্সবাজার-পেনাং
  • ফ্লাইট
  • সর্বশেষ