অবশেষে যাত্রীদের জন্য খুলছে থার্ড টার্মিনাল

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর অবশেষে যাত্রীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সফট ওপেনিংয়ের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিচালনা কাঠামো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতার কারণে আটকে ছিল নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা। তবে এবার ২০২৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে যাত্রী চলাচল শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আধুনিক স্থাপত্য, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও উন্নত যাত্রীসেবা ব্যবস্থার কারণে এটিকে দেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়। ওই বছরের অক্টোবরে সফট ওপেনিং অনুষ্ঠিত হলেও এরপর আর নিয়মিত যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে থার্ড টার্মিনাল দিয়ে ২০টি উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে কার্যক্রম। পুরোপুরি অপারেশনাল পর্যায়ে যেতে আরও প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ শুরুতেই পূর্ণ সক্ষমতায় না গিয়ে পর্যায়ক্রমে টার্মিনালটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়টিও রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। ১৫ বছরের জন্য জাপানি একটি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত মুনাফার ২৭ শতাংশ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন টার্মিনাল চালুর সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি অংশ থাকবে বিদেশি অপারেটরের হাতে। ফলে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড অপারেশনে দেশি ও বিদেশি অপারেটরের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দেখা যাবে।

থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া, আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তৈরি হবে বাড়তি সুযোগ। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে থার্ড টার্মিনাল চালু হলেও শাহজালাল বিমানবন্দরের সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান হবে না। কারণ নতুন টার্মিনালের সঙ্গে নতুন কোনো রানওয়ে যুক্ত হচ্ছে না। পুরোনো দুই টার্মিনালের পাশাপাশি থার্ড টার্মিনালের ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও বিদ্যমান রানওয়েকেই ব্যবহার করতে হবে।

ফলে নতুন টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রানওয়ের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। ফ্লাইট সংখ্যা বাড়লে স্লট ব্যবস্থাপনা, উড্ডয়ন-অবতরণ এবং এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের আধুনিকায়ন এবং বিদ্যমান রানওয়ের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, ১৬ ডিসেম্বরের যাত্রীসেবা শুরুর পরিকল্পনা শাহজালাল বিমানবন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর থার্ড টার্মিনালের দরজা যাত্রীদের জন্য খুললেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত এবং কতটা দক্ষতার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অপারেশন চালু করা যায় তার ওপর। আর সেই সক্ষমতা বাস্তবে কাজে লাগানো গেলে দেশের এভিয়েশন খাতে এটি হতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা।

  • থার্ড টার্মিনাল