ঢাকা-ব্যাংকক রুটে থাই এয়ারওয়েজের নতুন এয়ারবাস এ৩২১নিও

লেখক: মোঃ শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের বাজারে উপস্থিতি আরও জোরদার করতে ঢাকা-ব্যাংকক রুটে নতুন এয়ারবাস এ৩২১নিও উড়োজাহাজ চালু করেছে থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল। গত ১৫ আগস্ট ঢাকা থেকে এ উড়োজাহাজের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এর ফলে থাই এয়ারওয়েজের ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন আঞ্চলিক ফ্লাইট সূচিতে যুক্ত হলো নতুন এ৩২১নিও।

এ৩২১নিও উড়োজাহাজ সংযোজন থাই এয়ারওয়েজের বহর আধুনিকায়নের বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এইচএস-টিওএ নিবন্ধন নম্বরের উড়োজাহাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘বোওনরুংসি’। আধুনিক ও উন্নতমানের ভ্রমণসেবা নিশ্চিত করতে থাই এয়ারওয়েজের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে যাওয়া ৩২টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজের মধ্যে এটিই প্রথম।

নতুন এয়ারবাস এ৩২১নিওতে দুই শ্রেণির কেবিনে মোট ১৭৫টি আসন রাখা হয়েছে। ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ হলেও যাত্রীদের জন্য ওয়াইডবডি বিমানের মতো আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এর কেবিন সাজানো হয়েছে। রয়্যাল সিল্ক ক্লাসে রয়েছে ১৬টি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বেড, যা সর্বোচ্চ ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত হেলানো যায়। ২-২ ও ১-১ বিন্যাসের এসব ‘থ্রোন সিট’ যাত্রীদের বাড়তি গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য দেবে। প্রিমিয়াম আসনগুলোর প্রস্থ ২০ ইঞ্চি এবং সিট পিচ ৪৫ ইঞ্চি।

অন্যদিকে, ইকোনমি ক্লাসে রয়েছে ১৫৯টি এরগোনমিক স্লিম-লাইন আসন। প্রতিটি আসনের প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি, পিচ ৩১ ইঞ্চি এবং সর্বোচ্চ ১১০ ডিগ্রি পর্যন্ত হেলানোর সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া ছয় দিকে সমন্বয় করা যায় এমন চামড়ার হেডরেস্ট যাত্রীদের ভ্রমণে আরও আরাম দেবে।

নতুন উড়োজাহাজটির প্রতিটি আসনে রয়েছে আধুনিক ৪কে টাচস্ক্রিনভিত্তিক ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) ব্যবস্থা। রয়্যাল সিল্ক ক্লাসের যাত্রীদের জন্য ১৭.৩ ইঞ্চি এবং ইকোনমি ক্লাসের জন্য ১৩.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন রাখা হয়েছে। উভয় শ্রেণির স্ক্রিনেই ব্লুটুথ অডিও সংযোগের পাশাপাশি এসইএস ওপেন অরবিটস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রীদের লাগেজ রাখার সুবিধা বাড়াতে উড়োজাহাজটিতে যুক্ত করা হয়েছে এয়ারস্পেস এক্সএল ওভারহেড বিন। এতে প্রচলিত বিনের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি জিনিস রাখা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি বিনে চারটি পর্যন্ত কেবিন ব্যাগ রাখা যাবে। পরিবর্তনযোগ্য মুড লাইটিংয়ের পাশাপাশি ‘থাই কনটেম্পোরারি’ ভাবনায় সাজানো হয়েছে কেবিনের অভ্যন্তরীণ নকশা, যা পুরো ভ্রমণে যাত্রীদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

এ৩২১নিও উড়োজাহাজের বড় বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে এর উন্নত প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব সক্ষমতা। উন্নত সিএফএম লিপ-১এ ইঞ্জিনে চালিত এই উড়োজাহাজ আগের প্রজন্মের বিমানের তুলনায় প্রতি আসনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে। একই সঙ্গে এর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও তুলনামূলক কম। শব্দ উৎপাদনের মাত্রা কম হওয়ায় উড়োজাহাজটির কেবিনও অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে।

এ ছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের জন্য এ৩২১নিও সনদপ্রাপ্ত। জ্বালানি দক্ষতা আরও বাড়াতে উড়োজাহাজটিতে বড় আকারের ‘উইংটিপ শার্কলেট’ প্রযুক্তিও সংযোজন করা হয়েছে।

  • travel based first digital media
  • এয়ারবাস এ৩২১নিও
  • থাই এয়ারওয়েজ
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া