প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ট্রাভেল মার্ট, অংশ নেবে ২০টিরও বেশি দেশ

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম) ২০২৬। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক ট্রাভেল মার্ট আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের ট্রাভেল মার্টে বাংলাদেশসহ ২০টির বেশি দেশের ১৩০টিরও বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ৫০ জন আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার, ২০০ জন দেশীয় বায়ার এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী অংশ নেবেন।

শনিবার( ১১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ট্রাভেল মার্টের প্রধান সমন্বয়ক মহসিন ইকবাল, সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান এবং সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, সরকারি নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও আন্তরিক আতিথেয়তাকে বিশ্বপর্যায়ে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এই আয়োজন দেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতের আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে মাইলফলক হবে।

বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটন সম্প্রসারণ, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট সেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই অংশ।

প্রধান সমন্বয়ক মহসিন ইকবাল জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) এবং বিজনেস-টু-কনজিউমার (B2C) কার্যক্রম পৃথক দুটি হলে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বায়ার ও প্রদর্শকদের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত বায়ার-সেলার সভা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আয়োজকদের মতে, এতে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়বে।

অন্যদিকে, B2C অংশে সাধারণ দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের তথ্য এবং বিশেষ মূল্যছাড় ও অফার সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকরা জানান, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ট্রাভেল মার্টে একটি পৃথক মিডিয়া সেন্টারও স্থাপন করা হবে। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার সমন্বয়, মিডিয়া কিট এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও যোগাযোগ সহায়তা দেওয়া হবে।

  • travel based first digital media
  • ট্রাভেল মার্ট
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া