শুক্রবার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর আবারও সামনে আসে বাংলাদেশের অতীতের বড় বড় ভূমিকম্পের কথা, সেই ১৭৬২ সালের ভয়াল রাতে এক প্রলয়ঙ্করী কম্পনে সমুদ্র ফুঁড়ে জন্ম নিয়েছিল আজকের সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে বড় ধরনের কম্পন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বাংলা ও মিয়ানমার উপকূলে সংঘটিত এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পেই সৃষ্টি হয় আজকের নয়ানাভিরাম সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল সায়েন্স ডাইরেক্ট–এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, রিখটার স্কেলে প্রায় ৮.৫ মাত্রার সেই কম্পনে ভারত ও মিয়ানমার টেকটোনিক প্লেটের প্রচণ্ড ধাক্কায় সমুদ্রের তলদেশের বিশাল অংশ হঠাৎ পানির ওপরে উঠে আসে। যা বিজ্ঞানীরা ‘কো–সিসমিক আপলিফ্ট’ নামে উল্লেখ করেন।
গবেষকদের মতে, সেদিন টেকনাফের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, সাগরের বুক চিরে একরাতেই প্রায় ১০ ফুট উঁচুতে জেগে ওঠে ডুবো চরের বিশাল অংশ। যা আজকের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃত প্রবালের স্তরগুলো সেই ১৭৬২ সালেরই নীরব সাক্ষী। কার্বন ডেটিং বলে, প্রবালগুলো একসময় ছিল পানির নিচে। কিন্তু হঠাৎ ভূমিতে উঠে আসায় বাতাস ও রোদের সংস্পর্শে গিয়ে তারা মারা যায়। সেই মৃত প্রবালের কঙ্কালের ওপর দাঁড়িয়েই আজ হাসছে সেন্টমার্টিন।
