বাংলাদেশ বদলে দিতে পারে এশিয়ার আকাশপথের মানচিত্র

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিমানবন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নেটওয়ার্কে দেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের মধ্যে আকাশপথের সংযোগ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। এ কারণে ভবিষ্যতে উপযুক্ত অবকাঠামো ও নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স বাংলাদেশকে ট্রানজিট বা অপারেশনাল স্টপ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভৌগোলিক সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক বিমানবন্দরই একটি সফল ট্রানজিট হাবের প্রধান শর্ত। এ ক্ষেত্রে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, উন্নত বোর্ডিং ব্রিজ, বিস্তৃত অ্যাপ্রন এবং উন্নত গ্রাউন্ড অপারেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য ঢাকা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পও দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘায়িত রানওয়ে এবং ভবিষ্যতে বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করছে। তবে এটিকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট বা রিফুয়েলিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত অবকাঠামো, কাস্টমস সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এভিয়েশন উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, এয়ার নেভিগেশন প্রযুক্তির উন্নয়ন, রাডার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো বাজারকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করলেই কোনো দেশ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব হয়ে উঠতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন দ্রুত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, প্রতিযোগিতামূলক জেট ফুয়েলের মূল্য, ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিমান পরিচালনা, দক্ষ ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, সহজ ট্রানজিট ভিসা নীতি, উন্নত কার্গো সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা।

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দুবাই, সিঙ্গাপুর কিংবা কুয়ালালামপুরের মতো প্রতিষ্ঠিত ট্রানজিট হাবগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর আস্থা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন, বাংলাদেশের সামনে একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করা গেলে আগামী এক দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন সংযোগকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • বাংলাদেশ