দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও আপাতত এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই সরকারের। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু মহল থেকে জিয়াউর রহমান-এর নামে বিমানবন্দরটির নাম পুনর্বহালের দাবি উঠলেও, সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক স্থাপনার নাম পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত থাকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন নথিপত্র, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ডাটাবেজ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক রেকর্ড সংশোধনের মতো জটিল প্রক্রিয়া।
সূত্রগুলো বলছে, ২০১০ সালে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের সময় বিপুল ব্যয় হয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। একইভাবে ভবিষ্যতে আবার নাম পরিবর্তন করা হলে আন্তর্জাতিক ও কারিগরি বিভিন্ন নথি সংশোধনে বড় অঙ্কের ব্যয় হতে পারে। এ কারণে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের একটি প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্বিতীয় রানওয়ে চালু করা গেলে প্রতিদিন পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা যাত্রীসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশনের রাজস্ব আয়ও বাড়াবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল চালুর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী বিজয় দিবস উপলক্ষে টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা। টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবাদানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাম পরিবর্তনের বিতর্কে না গিয়ে বর্তমানে বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও সুদৃঢ় হবে।
