শাহজালালে নতুন এটিসি টাওয়ার থেকে আয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হওয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার রাজস্ব আয় ও আকাশসীমার নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই টাওয়ার চালুর পর দেশের আকাশপথ ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ওভারফ্লাইং চার্জ আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত রাডার ব্যবস্থা ছিল পুরোনো ও সীমিত সক্ষমতার। ১৯৮৬ সালে স্থাপিত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডারের কার্যক্ষমতা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও সেটির ওপর নির্ভর করেই বছরের পর বছর আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আকাশসীমার অনেক অংশ কার্যকর নজরদারির বাইরে ছিল।

এই সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী অনেক বিদেশি উড়োজাহাজের কাছ থেকে নির্ধারিত ওভারফ্লাইং চার্জ আদায় করা সম্ভব হতো না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব হারাত।

তবে নতুন ফরাসি প্রযুক্তির রাডার ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক এটিসি টাওয়ার চালুর পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে দেশের পুরো আকাশসীমা, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর এলাকার ওপর শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রতিটি ফ্লাইট শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা যাচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানেও এর ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ওভারফ্লাইং চার্জ থেকে আয় হয়েছিল ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। আর ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এই আয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

মাসভিত্তিক হিসাবেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে আয় হয়েছিল প্রায় ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি হয়েছে।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এটিসি টাওয়ার ও আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন ঢাকা থেকে প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল দূর পর্যন্ত আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কোনো ফ্লাইটের পক্ষেই রাডারের নজর এড়িয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এটিসি টাওয়ার শুধু আকাশসীমার নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, একই সঙ্গে দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

  • এটিসি টাওয়ার