দেশে জেট ফুয়েলের মূল্য হঠাৎ করে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাম্প্রতিক এক সভায় জেট এ-১ ফুয়েলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ফুয়েলের মূল্য ০.৭৩৮৫ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে।
এওএবি’র সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে পূর্বনির্ধারিত দামে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতির দিকে থাকলেও ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে মূল্য বৃদ্ধি করা যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক। যেখানে ভারত ও নেপাল দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে প্রায় ২৪.৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের ওপর পড়বে। অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এছাড়া জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ প্রেক্ষাপটে, এওএবি দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হয়।
