বাংলাদেশে বিমানের টিকিট বিক্রি ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের মাঝারি আকারের এভিয়েশন বাজারে ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায়। এ সময়ে বাজারে মোট ৪৫টি এয়ারলাইন্স সক্রিয় ছিল। মুদ্রা বিনিময় হারের অস্থিরতা বিরাজমান থাকলেও খাতটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ ।

দেশে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এর বিলিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্ল্যান (বিএসপি) পদ্ধতির আওতায় উল্লিখিত পরিমাণ টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়। বাজার পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং থাকা সত্ত্বেও বার্ষিক হিসাবে এ খাতে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

সর্বশেষ আইএটিএ-সংযুক্ত ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারী এয়ারলাইনের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৫টিতে, যেখানে বিগত বছরে এটি ছিল ৪২টি। এটিকে দেশের এভিয়েশন বাজারে বিদেশী এয়ারলাইনগুলোর আগ্রহ বাড়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ডলারে মোট টিকিট বিক্রয় দাঁড়ায় ১১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে এটি ছিল ১১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ডলারের মূল্যে মাত্র ০.০৪ শতাংশ কমতি দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট বিএসপি পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ২.৩৪ শতাংশ আয় এসেছে। মোট লেনদেনের হিসাবে এ অর্থের অংশ ২.৯৫ শতাংশ। আগের বছর মোট লেনদেন ছিল ৩৬ লাখ ৭০ হাজার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১.৫১ শতাংশ কম।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাভেল এজেন্টরা যে পরিমাণ আকাশ ভ্রমণের টিকিট বিক্রি করেছেন, তা ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় মার্কিন ডলারে ২৬.৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশি টাকায় ১৮.৮১ শতাংশ কমে গেছে।

মোট লেনদেনের ৮৭ শতাংশের বেশি ই-টিকেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে অর্থ ফেরত প্রদান ৮ শতাংশ হারে কমেছে এবং যাত্রা বাতিলের হারও ৬ শতাংশ হারে কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে যাত্রীদের ট্রাভেল এজেন্টদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশে বিএসপি হেড এন্টিটির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০, যা আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। আইএটিএ স্বীকৃত ট্রাভেল এজেন্টের সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৪।

  • বিমান টিকিট