থার্ড টার্মিনালের প্রতিটি কোণায় মিলবে নেটওয়ার্ক, খরচ ৪৭ কোটি টাকা

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এভিয়েশন অবকাঠামো প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে এবার নিশ্চিত করা হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সুবিধা। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার অনুমোদন দিয়েছে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা হলো শক্তিশালী ইনডোর মোবাইল নেটওয়ার্ক। কিন্তু থার্ড টার্মিনালের বিশাল কংক্রিট কাঠামো, বিশেষ ধরনের ইনসুলেটেড কাঁচ এবং স্টিল স্ট্রাকচারের কারণে সাধারণ মোবাইল সিগন্যাল সহজে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে আলাদা ইনডোর টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সরকার অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের আওতায় থার্ড টার্মিনালের প্রতিটি তলা, করিডোর, বোর্ডিং গেট, ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ ক্লেইম ও যাত্রীসেবা এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা হবে। ফলে যাত্রীরা টার্মিনালের যেকোনো স্থান থেকেই নির্বিঘ্নে ভয়েস কল, মোবাইল ডেটা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় সোয়া কোটি যাত্রী যাতায়াত করেন। প্রতিদিন গড়ে পরিচালিত হয় প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট। থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে যাত্রীসংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন। সেই বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় রেখেই আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় টার্মিনালে স্থাপন করা হবে ৭০০টি স্মল সেলভিত্তিক অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম বা ডিএএস। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ভবনের প্রতিটি অংশে সমানভাবে মোবাইল সিগন্যাল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি বসানো হবে ৬৩৫টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট, যা যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত সংযোগ নিশ্চিত করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্ক শুধু বর্তমানের ফোরজি প্রযুক্তির জন্য নয়, ভবিষ্যতের ফাইভজি সেবার উপযোগী করেই নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন করে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ ছিল না। থার্ড টার্মিনালের মূল নির্মাণ পরিকল্পনায় ইনডোর মোবাইল নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত না থাকায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবং মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে নেটওয়ার্ক পরিচালনার মডেল নিয়ে দীর্ঘদিন মতবিরোধ চলতে থাকে, যার ফলে প্রকল্পটি কয়েক বছর বিলম্বিত হয়।

শেষ পর্যন্ত সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটছে এবং থার্ড টার্মিনাল চালুর সময় থেকেই যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পথ উন্মুক্ত হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সংযোগ এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপরিহার্য অংশ। তাই থার্ড টার্মিনালে এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত আন্তর্জাতিক মানের আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • থার্ড টার্মিনাল