মেঘের রাজ্য নামে খ্যাত সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট-কটেজগুলোতে বৃহস্পতিবার পরিপূর্ণ বুকিং ছিল বলে জানায় মালিক সমিতি।
রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, তিন দিনের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য পর্যটকরা রাঙামাটি, হ্রদ ও পাহাড়ের এই অঞ্চলে ভিড় করেছেন। তাদের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ।
একইসঙ্গে ঘুরতে আসা মানুষের কারণে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও।
মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের ছুটির পরিপ্রেক্ষিতে, পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন রাঙামাটির প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো, যেমন ঝুলন্ত সেতু, ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, রাজবাড়ি এবং কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন আকর্ষণে ।
এছাড়া আসামবস্তি- কাপ্তাই সড়কসহ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা নীলাঞ্জনা রিসোর্ট, রাঙাদ্বীপ, বেরান্ন্য লেক, ইজোর, রান্ন্যেটুগুনসহ দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর কেন্দ্রগুলোয়ও পরিবার, প্রিয়জন ও আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে হাজির হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অনেক পর্যটক কাপ্তাই লেকে ইঞ্জিন চালিত বোটে করে ভ্রমণ করছেন এবং সেখানকার শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করছেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, “আমরা কয়জন বন্ধু মিলে বেড়াতে এসেছি। রাঙামাটির বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। এক পাশে পাহাড় আরেক পাশে লেকের অপরুপ সৌন্দর্যে খুব ভালো লাগছে।”
দুদিন ধরে বোট চালক ও মালিকরাও ব্যস্ততার সময় পার করছে বলে জানান পর্যটন নৌ-যান ঘাটের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “টানা ছুটিতে ভালো পর্যটকের সমাগম ঘটছে। প্রচুর পর্যটক বোটে করে কাপ্তাই লেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমাদের দৈনিক ২৫ থেকে ৩০টির মতো বোট ভাড়া হচ্ছে। ”
ঝুলন্ত সেতুর টিকেট কাউন্টারের দায়িত্বরত কর্মচারী মো. সোহেল বলেন, “বৃহস্পতিবার দেড় হাজারের বেশি পর্যটক ঝুলন্ত সেতুতে ভ্রমণ করেছে। শুক্রবারও ভালো পর্যটক আসতেছে, আগের দিনের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে আশা করছি।”
রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, “বৃহস্পতিবার আমাদের হোটেল- মোটেলগুলো ৮০ শতাংশ উপরে বুকিং ছিল। আজকেও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মতো বুকিং রয়েছে।”
এদিকে, মেঘের রাজ্য নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালিও বর্তমানে পর্যটকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ। পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ছুটছেন পর্যটকরা।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ বলেন, “বৃহস্পতিবার আমাদের রিসোর্ট-কটেজগুলোয় শতভাগ বুকিং ছিল। আজকেও (শুক্রবার) ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।”
