অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে জোরদার সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আবাসিক ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন পথ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা, বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাঠামোবদ্ধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, কার্যকর অভিবাসন শাসনব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টেকসই অভিবাসন নিশ্চিত করতে শ্রমমান, ন্যায্য নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অভিবাসন ছাড়াও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ–ইইউ মধ্যে একটি সমন্বিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাও বিবেচনায় আসে। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মানবিক বিষয়, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক অর্থনীতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূতরা সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তারা বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর আগে একই দিনে ইইউ প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও বৈঠক করেন।অভিবাসন শাসনব্যবস্থা ও কর্মশক্তির গতিশীলতাসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইইউ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি ।
