কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক করার ঘোষণা স্থগিত, নেপথ্যে কি

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বেষ্টিত কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ওড়ার বহুদিনের স্বপ্ন বাংলাদেশের মানুষের। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় অগ্রগতি এসেছিল চলতি মাসের ১২ তারিখ, যখন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দরটিকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেয়। কিন্তু ঘোষণার মাত্র ১২ দিন পরই এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে প্রশ্ন—এত দ্রুত কেন পরিবর্তন এল এই সিদ্ধান্তে ?

এয়ারলাইনসগুলোর অনীহা
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর আগ্রহ না থাকাই সিদ্ধান্ত স্থগিতের অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত কোনো বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে আকৃষ্ট করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। কিন্তু ঘোষণার পর কেবল জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা জানায়। অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা তো বটেই, এছাড়াও দেশীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও এই মুহূর্তে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখায়নি।

এছাড়াও, একটি মাত্র আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়ে এই ব্যয়বহুল বিমানবন্দর আদৌ লাভজনক হবে কিনা, সেই অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

অসম্পূর্ণ অবকাঠামো ও রানওয়ের ঘাটতি
ঘোষণা দেওয়া হলেও বিমানবন্দরটির অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এখনো সম্পূর্ণ নয়। সমুদ্রের তীরে নির্মিত এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট, যার মধ্যে ৯ হাজার ফুট প্রস্তুত রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৭০০ ফুটের কাজ এখনো চলমান।

একইভাবে ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের নতুন টার্মিনাল ভবনের কাজও এখনো শেষ হয়নি। যার নির্মাণ অগ্রগতি ৮৫ শতাংশের মতো। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধাগুলোও পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় প্রশাসনিক ও যাত্রীসেবামূলক ঘাটতি রয়ে গেছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগ
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সারাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার বিমানবন্দরকেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আগে কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

যাত্রী নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিশ্চিত করে তারপরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় সরকার।

  • আন্তর্জাতিক ঘোষণা স্থগিত
  • কক্সবাজার বিমানবন্দর