কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও যশোর কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ার যোগ্য?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এভিয়েশন উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এই চারটি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়েতে রূপান্তরের উদ্যোগ দেশের আকাশপথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটননগরী কক্সবাজার, উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সৈয়দপুর, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান শহর রাজশাহী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের কৃষিজাত পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য কার্গো সুবিধা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক রূপ পেলে বেনাপোল স্থলবন্দর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর একটি এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন ও ট্রানজিট হাবে পরিণত করা। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বহর সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো থেকে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি রাজধানীকেন্দ্রিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার চাপ কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশেও নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রী চাহিদা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয় সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও যশোর দেশের পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • যশোর বিমানবন্দর
  • রাজশাহী বিমানবন্দ
  • সৈয়দপুর বিমানবন্দর