শিলিগুড়িতে ১৩ মাসের ‘বাংলাদেশি বয়কট’ প্রত্যাহার

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

দীর্ঘ ১৩ মাস পর পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর আরোপিত অলিখিত আবাসন নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর ফলে এখন থেকে বাংলাদেশি পর্যটকরা শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে পুনরায় আবাসন সুবিধা পাবেন।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং তীব্র ভারতবিরোধী প্রচারণার প্রতিবাদে তারা ‘বাংলাদেশ বয়কট’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উষ্ণতা ফিরতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত পেয়েই তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হোটেল মালিকরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতবিরোধী ঘৃণা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা কমেছে বলে তারা মনে করছেন। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ করিডোর বা শিলিগুড়ি করিডোরের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশি পর্যটকদের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ফুলবাড়ি ও হিলি সীমান্তের মাধ্যমে পরিচালিত বাণিজ্যেও এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিলিগুড়ি করিডোরটি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সাথে ভারতের সংযোগ রক্ষায় অন্যতম ট্রানজিট হিসেবে কাজ করে। বিগত ১৩ মাসে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থানীয় পর্যটন ও হোটেল ব্যবসায় যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তা কাটাতে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় পুরোদমে চালুর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

হোটেল মালিকদের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক হলে শিলিগুড়ি ছাড়াও দার্জিলিং ও সিকিমের পর্যটন শিল্পে পুনরায় গতি ফিরবে।

  • বাংলাদেশী
  • শিলিগুড়ি
  • হোটেল