এভিয়েশন খাত শক্তিশালী করতে একসাথে বাংলাদেশ – ইউরোপীয় ইউনিয়ন

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

গুরুত্বপূর্ণ দুইটি টেকনিক্যাল সেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এর মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক তদারকি বিষয়ে এই টেকনিক্যাল সেশন দুটি নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ইইউ–সাউথ এশিয়া অ্যাভিয়েশন পার্টনারশিপ প্রজেক্টের আওতায় কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয় , যা বাস্তবায়ন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ।

তিন দিনব্যাপী রিজিওনাল অ্যাভিয়েশন সেফটি প্রোগ্রাম এবং আইকাও এর ইউএসওএপি অডিট সাপোর্ট ওয়ার্কশপে অংশ নেন ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তিন দিনব্যাপী রিজিওনাল অ্যাভিয়েশন সেফটি প্রোগ্রামে আধুনিক বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস) ও ফ্লাইট ডাটা মনিটরিং (এফডিএম) উপস্থাপন করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স এবং শিল্প-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এটিআর–এর প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়াও, আঞ্চলিক অপারেটররা নিরাপত্তা সংস্কৃতি, তথ্য ব্যবহারের কৌশল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় কর্মসূচি আইকাও-এর ইউনিভার্সাল সেফটি ওভারসাইট অডিট প্রোগ্রাম(ইউএসওএপি) নিয়ে বিশেষায়িত কর্মশালায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সির বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিবেশী দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা আইকাও প্রটোকল অনুযায়ী অডিট প্রস্তুতি, নথিপত্র মান, প্রমাণ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি কৌশল পর্যালোচনা করেন।

অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা তদারকি নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, যা ভবিষ্যতের আইকাও মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক।

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, বাংলাদেশের বিমান খাত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি’ এবং ইইউ বহর নবায়ন, গ্রিন এভিয়েশন, উদ্ভাবন ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব কর্মসূচি বাংলাদেশ–ইইউ বিমান সহযোগিতাকে আরও গভীর করেছে, যা ভবিষ্যতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত বিনিময়কে আরও এগিয়ে নেবে।

উল্লেখ্য, ইইউ–দক্ষিণ এশিয়া এভিয়েশন অংশীদারিত্ব প্রকল্প, যা বৃহত্তর ইউ-এশিয়া এপিপি–এর অংশ। ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিমান নিরাপত্তা তদারকি শক্তিশালীকরণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত কর্মশালা ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

  • ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব
  • বেবিচক