জাতীয় এয়ার ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন কমিটি (এনএএফটিসি)-এর ৯ম সভা সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সভায় সদস্য-সচিব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক-এর সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। এছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ধর্ম বিষয়ক, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কাস্টমস), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এয়ারলাইন্স অপারেটিং কমিটি, বাংলাদেশ পুলিশ ও ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অ্যানেক্স-৯ অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি কার্যকর এয়ার ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন কমিটি গঠন ও নিয়মিত সভা আয়োজন বাধ্যতামূলক। এ কমিটির প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে যাত্রী, ব্যাগেজ ও কার্গো পরিবহনকে সহজ, দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
এছাড়া আইকাও-এর ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম–কনটিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)-এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ে এনএএফটিসি-এর নিয়মিত সভা আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় বিমানবন্দরসমূহে যাত্রীসেবা সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা হ্রাস, তথ্য আদান-প্রদান উন্নয়ন এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ফ্যাসিলিটেশন কার্যক্রম উন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সময় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিলিটেশন ও এভিয়েশন সিকিউরিটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও পরিপূরক। যথাযথ ফ্যাসিলিটেশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, যা বিমানবন্দরসমূহে একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ প্রণয়নের ফলে কমিটির কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সভায় যাত্রী প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতাসহ বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ, সমন্বিত কর্মপদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি যাচাই জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এনএএফটিসি-এর কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, যাত্রীসেবার উন্নয়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
