বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ শুরু হয়েছে। সোমবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সেমিনামের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
এবারের সেমিনারের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রম: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা মানসিকতা গঠন’। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এ আয়োজনে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এর পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও দেখা দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক এ ধরনের সেমিনার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা সম্ভব।
সেমিনারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
এবার প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও সেমিনারে যোগ দিয়েছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন।
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করছেন। আলোচনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব ও প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চর্চা অনুসরণ, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়েও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সেমিনার আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হবে।
