২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে ৪৭টি উড়োজাহাজ

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দীর্ঘদিন ধরে সীমিত বহর ও আর্থিক চাপে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবার বড় পরিসরে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১৪টি সচল উড়োজাহাজ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিমান ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৭টি আধুনিক বিমান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকালে এমনটাই জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন

এসময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে বহর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “টোকিও বা থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে গেলে তাদের নিজস্ব শত শত উড়োজাহাজ দেখা যায়, যা তাদের এভিয়েশন সক্ষমতার প্রমাণ। সেখানে ঢাকায় আমাদের উড়োজাহাজের সংখ্যা হাতেগোনা। এই বাস্তবতা বদলাতে হবে।”

তিনি আরও জানান, বোয়িং ও এয়ারবাসসহ আন্তর্জাতিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগের তুলনায় কম দামে এবং সুবিধাজনক শর্তে বিমান কেনার লক্ষ্যে সরকার নেগোসিয়েশন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিমানের প্রণীত ‘মাস্টারপ্ল্যান’ অনুযায়ী, আগামী এক দশকে ধাপে ধাপে ৪৭টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এবং দেশের বিপুল আউটবাউন্ড যাত্রীবাজারের একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রীর বাজার থাকলেও বিমান তার খুব সামান্য অংশই ধরতে পারছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে রুট সম্প্রসারণ, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে। তবে বিশাল এই বহর পরিচালনার জন্য কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এভিয়েশন সংস্থায় পরিণত হতে পারে বলে আশা বিমান উপদেষ্টার।

  • বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স