শাহজালাল বিমানবন্দরে ড্রোন উড়ালে শাস্তির হুঁশিয়ারি

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদন ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এলাকায় ড্রোন উড়ালে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষবেবিচক। ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে বিমান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ দণ্ডনীয়এমন সতর্কতামূলক নোটিশ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এন্টিড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি বিমান মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গন নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সমাবেশের সময় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন নিবিড়ভাবে নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন শনাক্ত নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সরকারি ক্রয় আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ড্রোন উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে বেবিচক বিমান মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর এর আশপাশের এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে ড্রোন উড্ডয়ন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং বেবিচক প্রণীতড্রোন নিবন্ধন উড্ডয়ন নীতিমালা২০২০অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কোনো ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

বেবিচকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ ১৯ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ায় যথাক্রমে স্ক্রল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় বীর শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণকালে তিনজন উপদেষ্টা অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কয়েকটি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম অনুমতি ছাড়াই বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন করে চিত্র ধারণ করে। সে সময় বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান উড্ডয়ন অবতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান ছিল।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিমানবন্দর এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ড্রোনের সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষের আশঙ্কার পাশাপাশি রানওয়ে ট্যাক্সিওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এসব বিষয় বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকেনোড্রোন জোনহিসেবে ঘোষণা করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

  • Travel based 1st digital media
  • ড্রোন
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া
  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর