আমি আইনের বাইরে কিছু করিনি: সমালোচনার জবাবে বিমান উপদেষ্টা

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হয়েও বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি)  দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এর আগেও ২২ জন মন্ত্রী বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। আমি আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করিনি।”

গেল বছরের ২৬ আগস্ট অন্তবর্তী সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর এই নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এর আগে ২২ জন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি ২৩তম। প্রধানমন্ত্রীও বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। এখানে তো আইনের কোনো বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হয়নি। সো আপনি যদি এই একটা জায়গায় নেইল ডাউন করেন আমাকে, তাহলে আমরা ফ্যাসাদ তৈরি করার জন্য অনেক আলোচনা করতে পারি।‘

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আপনি যদি এইটা বলেন যে, এর বিনিময়ে বিমানে কী অর্জিত হয়েছে। বিমান একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে এবং আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রূটে ২০ হাজার টাকায় টিকেট বিক্রি করছি, এর ফলে বিমান অতিরিক্ত ১২০ কোটি টাকার মুনাফা করল। এটা কি সেলিব্রেশনের পয়েন্ট হতে পারে না?’

সম্প্রতি ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত ‘দ্য লর্ড অব উইংস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা বলেন, “আমাকে নাম দিয়েছে ‘দ্য লর্ড অব উইংস’। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওনারা জানেন না হেলিকপ্টারের কোনো উইংস হয় না। আমার একটা হেলিকপ্টার আছে। আর আমার হেলিকপ্টার আমি কালকে কিনি নাই। আমি হেলিকপ্টার কিনেছি ১৪ বছর আগে। ১৪ বছর ধরে আমি এই হেলিকপ্টারটা ফ্লাই করি।”

নিয়ম অনুযায়ী হেলিকপ্টার পরিচালনার সনদ পাওয়ার প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির এভিয়েশন মার্চ মাসে যখন হাসান আরিফ স্যার এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, আমি তো জানতাম না যে উনি ইন্তেকাল করবেন। আমি তো এটাও জানতাম না যে সরকার আমাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিবে। একটা ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে আমি মেজরিটি শেয়ার হোল্ডার হিসেবে। আমি এই কোম্পানির বোর্ডে না আমি এই কোম্পানির ম্যানেজমেন্টে না এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি একটি ইন্ডিপেনডেন্ট সংস্থা। মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের অনুমোদন তাদের লাগে না একটা লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে।”

সনদ পেতে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হয়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখানে প্রভাব বিস্তার করতাম, আজ ১১ মাসে আমার লাইসেন্সটা কেন হল না? আমার কী নেই? আমার পাইলট আছে, আমার ইঞ্জিনিয়ার আছে, আমার অফিস আছে আমার হ্যাঙ্গার আছে, আমার হেলিকপ্টার আছে। আই হ্যাভ এভরিথিং। ১১ মাসে একটা লাইসেন্স হয়নি। এর মাধ্যমে আমি এতোই প্রভাব বিস্তার করে ফেললাম?’

তিনি আরো বলেন, “আর হেলিকপ্টার নিয়ে তো সৌদি আরব যাওয়া যায় না, হেলিকপ্টার নিয়ে তো কুয়েত যাওয়া যায় না দুবাই যাওয়া যায় না; এটা তো সম্ভব না। তো আমি কীভাবে কমপিটিশন করব? আমি তো বুঝতে পারছি না। আমার জ্ঞানে আটকাচ্ছে না।”

  • travel based first digital media
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া