অক্টোবরেই কক্সবাজারে নামবে বিদেশি বিমান

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

আগামী অক্টোবর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম রানওয়েসমৃদ্ধ এই বিমানবন্দর থেকে শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নয়, বিদেশি এয়ারলাইনসও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও চুক্তির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক অপারেশন চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য, অক্টোবর থেকেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করা।

ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইনস কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা ও চুক্তির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিদেশি ক্যারিয়ারও কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর সম্প্রসারিত রানওয়ে। বঙ্গোপসাগরের অংশ বিশেষ ভরাট করে সমুদ্র থেকে জমি উদ্ধার করে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ হাজার ৭০০ ফুট, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট অংশ সমুদ্রের ওপর বিশেষ ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ২০০ ফুট প্রশস্ত এই রানওয়ে দেশের বিমান অবকাঠামো উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই রানওয়ের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে অবতরণের সময় যাত্রীদের কাছে উড়োজাহাজটি যেন সমুদ্রের বুকেই নামছে বলে মনে হবে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত উপকূলীয় বিমানবন্দরে দেখা গেলেও বাংলাদেশে এটিই প্রথম। দীর্ঘ ও প্রশস্ত রানওয়ের কারণে ভবিষ্যতে বোয়িং ৭৭৭সহ বড় আকারের ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ সহজেই এখানে অবতরণ করতে পারবে।

তবে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগে একবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও বিভিন্ন কারিগরি ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা স্থায়ী হয়নি। এবার প্রায় ১ হাজার ৫৬৮ থেকে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজারকে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে অবকাঠামো নির্মাণই সফলতার একমাত্র শর্ত নয়। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত যাত্রী, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুট। এ কারণে সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক গন্তব্য নির্ধারণের পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পর্যটক আকর্ষণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে শুধু পর্যটন খাতই নয়, কক্সবাজারের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরদের ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর