বিমানঘাঁটি থেকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ রুটে সেবা দিয়ে এলেও, এখন এটিকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক গেটওয়েতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।

বর্তমানে যশোর ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য প্রধানত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি সবই বাড়ে। যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক রূপ পেলে এই অঞ্চলের প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবার উপযোগী করতে এখানে একটি আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন টার্মিনালে চেক-ইন কাউন্টার, লাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন সুবিধা এবং যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরটির রানওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ের শক্তি, প্রশস্ততা ও ধারণক্ষমতা বাড়ানো হলে বোয়িং ৭৩৭-এর মতো মাঝারি আকারের উড়োজাহাজ পূর্ণ যাত্রী ও কার্গো নিয়ে নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া শীতকালীন কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও ফ্লাইট পরিচালনা সচল রাখতে আধুনিক রাডার, নেভিগেশন যন্ত্রপাতি এবং এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের বিমান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

যশোর বিমানবন্দরের কৌশলগত গুরুত্বও কম নয়। এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথের সমন্বিত যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ফলে এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক রূপ পেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য, রপ্তানি ও শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের বৃহত্তর এভিয়েশন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রকল্প ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যশোর বিমানবন্দর শুধু একটি আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবেই নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্তর্জাতিক আকাশপথের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • যশোর বিমানবন্দর