বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন, দ্রুত প্রতিবেদন চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবরও বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভিলেজ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। তিনি বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের বারবার অনুরোধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করা হয়নি। ফলে কনটেইনারের মাঝখানে দেড়শ টনেরও বেশি মালামাল স্তূপ হয়ে জমা ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ টন মালামাল থাকার কথা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও পণ্য খালাসে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে খতিয়ে দেখতে এভসেকের পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন বিভাগের পরিচালক ইফতেখার জাহান হোসেনকে প্রধান করে একটি অস্থায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কমিটিই বিস্তারিত জানাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের ঘটনা কেন বারবার ঘটছে এবং তা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শর্ট সার্কিট হলে কেন হচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। এর পেছনে অবহেলা বা ত্রুটি থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নাশকতার সম্ভাবনাও কম বলে মনে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, আগের অগ্নিকাণ্ডের পর স্থায়ী শেড নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের স্বল্প মেয়াদ এবং তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির কারণে নতুন স্থাপনা নির্মাণের পরিবর্তে সাময়িকভাবে ক্যানোপি বা শেড নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্তে দায়ীদের চিহ্নিত করা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

  • কার্গো ভিলেজে আগুন
  • বিমানবন্দর
  • রশিদুজ্জামান মিল্লাত
  • শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন
  • সর্বশেষ
  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর