বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর কুর্মিটোলা সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ চুরি এবং প্রবাসী যাত্রীদের সঙ্গে বিমানের কর্মীদের আচরণ নিয়ে তারা কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সোমবার সকালে সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. হুমায়রা সুলতানা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। পরে কনফারেন্স কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিমানের বর্তমান রুট নেটওয়ার্ক, বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, আর্থিক অগ্রগতি, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং আসন্ন হজ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা বিমানের দক্ষ জনবল ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের জাতীয় গর্বের প্রতীক। একে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও যাত্রীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।” তিনি লাগেজ চুরির ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যাত্রীদের—বিশেষ করে প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের—সঙ্গে সম্মানজনক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, টিকিট বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং টিকিট সংকটের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা আসন যাওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। আসন্ন হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেন তিনি। একই সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রণালয় সর্বদা সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, চুক্তি সাপেক্ষে ২০৩২ সালের মধ্যে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে পারে। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অপারেশনাল পরিকল্পনার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
