দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে কনভেয়ার বেল্টে নিজের লাগেজটি ভাঙাচোরা বা কাটা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যেকোনো যাত্রীর জন্যই চরম ভোগান্তির। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙা লাগেজ নিয়েই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। কিন্তু এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রীদের এই নীরবতা বা অসচেতনতার কারণেই তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হন।
এভিয়েশন আইন অনুযায়ী, যাত্রীর লাগেজের যেকোনো ধরনের ক্ষতির সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের। লাগেজ কাটা বা নষ্ট পেলে সঠিক উপায়ে অভিযোগ জানালে যাত্রীরা এয়ারলাইন্স থেকে নতুন ব্যাগ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বিমানবন্দর ত্যাগ না করা
নিয়ম অনুযায়ী, লাগেজ হাতে পাওয়ার পর সেটি ক্ষতিগ্রস্ত বা কাটা অবস্থায় দেখলে যাত্রীর প্রথম ও প্রধান কাজ হলো কোনোভাবেই বিমানবন্দর থেকে বের না হওয়া। টার্মিনালের বাইরে চলে গেলে যাত্রীর পক্ষে এই অভিযোগ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই লাগেজ বেল্ট থেকে নেওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বা কাস্টমার সার্ভিস ডেস্কে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পিআইআর ফর্ম পূরণ
কাস্টমার সার্ভিস ডেস্কে গিয়ে যাত্রীকে একটি ‘প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট’ বা পিআইআর ফর্ম পূরণ করে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। ঢাকার বিমানবন্দরগুলোর নিয়ম অনুযায়ী, লাগেজ নষ্ট হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকেই তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করাকে সবচেয়ে কার্যকর ও বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ
ক্ষতিপূরণ দাবি করার প্রক্রিয়াটি সহজ করতে যাত্রীকে তিনটি জিনিস অবশ্যই সযত্নে সংরক্ষণ করতে হবে। এগুলো হলো বোর্ডিং পাস, লাগেজের ট্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাগের পরিষ্কার ছবি। এর পাশাপাশি পূরণকৃত পিআইআর ফর্মের কপিটিও নিজের কাছে প্রমাণ হিসেবে রাখতে হবে।
কী ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে?
অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যাত্রীকে সমমানের বা স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটির একটি নতুন ব্যাগ দিতে বাধ্য। এছাড়া ব্যাগের কারণে ভেতরের কোনো মালামাল নষ্ট বা চুরি হলে, ওজন এবং আন্তর্জাতিক নিয়মাবলির ভিত্তিতে যাত্রী আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারবেন।
