দীর্ঘদিনের আলোচনা ও জটিলতার পর অবশেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানের হাতেই যাচ্ছে। দুই বছর ধরে রাজস্ব বণ্টন ও এমবার্কেশন ফি নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঢাকা–টোকিও বৈঠকে তার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে কার্যাদেশ দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই টার্মিনালটি যাত্রীসেবার জন্য পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
টার্মিনালটির নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হলেও পরিচালনা কাঠামো ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এর উদ্বোধন বিলম্বিত হয়। বিশেষ করে যাত্রীপ্রতি এমবার্কেশন ফি নির্ধারণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। জাপান প্রস্তাব করেছিল, টার্মিনাল পরিচালনার অংশ হিসেবে যাত্রীপ্রতি ১২ ডলার (প্রায় দেড় হাজার টাকা) এমবার্কেশন চার্জ আদায় করা হবে। তবে বর্তমানে বিমানবন্দরে এই ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এ প্রস্তাবে আপত্তি জানায়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮ ডলার পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে জাপান তাদের আগের দাবি থেকে অনেকটাই সরে এসেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে জাপান তাদের পূর্ববর্তী প্রস্তাব সংশোধন করে একটি নতুন ‘রিভাইজড প্রপোজাল’ বাংলাদেশের কাছে জমা দেবে। সেই প্রস্তাব পাওয়ার পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই থার্ড টার্মিনালটি সম্পূর্ণভাবে যাত্রীসেবার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। সেই অনুযায়ী কাজ এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশালাকার থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই টার্মিনালে থাকবে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, যার মধ্যে ১৫টি সেলফ চেক-ইন মেশিন। এছাড়া থাকবে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১৬টি স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ বেল্ট, অটোমেটেড নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৃহৎ ডিউটি-ফ্রি শপ ও লাউঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে তা শুধু যাত্রীসেবার মান বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী করবে।
