বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধে বিমানকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ২০ বছরের সময়। তবে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই দায়ভার বহন করবে সরকার, এমন শর্তে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রবিবার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা জানান, গত বছর দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর দিয়ে মোট এক কোটি ৬০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করতে পেরেছে মাত্র ২০ লাখ যাত্রী। অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি যাত্রী জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার সেবা নিতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ১৪টি। বাকি পাঁচটি উড়োজাহাজ বিভিন্ন কারণে গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশের জন্য অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে বলেও জানা উপদেষ্টা।
এই বাস্তবতা সামনে রেখে সরকার বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। দাম নির্ধারণ ও দরকষাকষির জন্য অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি নেগোসিয়েশন টিম গঠন করা হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে এই আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেনা ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে থাকবে ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।
এই ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে সরকারের মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন ছাড় ও সুবিধার কারণে চূড়ান্ত অঙ্ক কমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায় নামতে পারে। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, এই অর্থ ২০ বছরে পরিশোধ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বছরে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা।
এই অর্থ বিমান নিজেদের আয় ও লভ্যাংশ থেকেই পরিশোধ করবে। তবে অর্থ পরিশোধে নিশ্চয়তা হিসেবে সরকার ‘সভেরেন্টি গ্যারান্টি’ দেবে। অর্থাৎ কোনো কারণে বিমান নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই টাকা শোধ করবে রাষ্ট্রকেই শোধ করতে হবে।
এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা দুটোই চলছে বিভিন্ন মহলে।
