ইউএস-বাংলার পর একই মালিকের এয়ার অ্যাস্ট্রা! নেপথ্যে কী?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যাস্ট্রা। একই ব্যবসায়িক গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই দুই এয়ারলাইনসকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে একই মালিকানায় দুটি এয়ারলাইনস পরিচালনার প্রয়োজন কেন? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে বহুল ব্যবহৃত একটি ব্যবসায়িক কৌশল, যার লক্ষ্য ভিন্ন ধরনের যাত্রী ও বাজারকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম সম্প্রসারণ।

২০১৪ সালে মাত্র দুটি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বর্তমানে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইনসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাদের বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ এবং আগামী বছর আরও ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় একই গ্রুপের অধীনে কার্যক্রম শুরু করেছে এয়ার অ্যাস্ট্রা।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, একই ব্র্যান্ড দিয়ে সব ধরনের যাত্রীকে লক্ষ্য করার পরিবর্তে আলাদা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ভিন্ন বাজারে অবস্থান তৈরি করা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস শিল্পে পরিচিত একটি কৌশল। প্রিমিয়াম সেবা প্রত্যাশী যাত্রী এবং তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ করতে আগ্রহী যাত্রীদের চাহিদা এক নয়। তাই পৃথক ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বাজারকে ভাগ করে পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বের বড় এয়ারলাইনস গ্রুপগুলোর মধ্যেও এই মডেলের ব্যবহার দেখা যায়। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস গ্রুপের অধীনে রয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও স্কুট। একইভাবে লুফথানসা গ্রুপের অধীনেও একাধিক যাত্রীবাহী এয়ারলাইনস পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশল ও বাজারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

ইউএস-বাংলা গ্রুপের পরিকল্পনাও একই ধরনের বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যেখানে পূর্ণাঙ্গ ও তুলনামূলক প্রিমিয়াম সেবার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে এয়ার অ্যাস্ট্রা মূল্যসাশ্রয়ী বাজারকে লক্ষ্য করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এর ফলে একই গ্রুপ বাজারের বিভিন্ন স্তরের যাত্রীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল সফল হলে ভবিষ্যতে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, এভিয়েশন খাতের অন্যান্য সেবাতেও গ্রুপটির উপস্থিতি বাড়তে পারে। বহর সম্প্রসারণ, নতুন রুট, ভিন্ন ব্র্যান্ড এবং সমন্বিত পরিচালনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে একই সঙ্গে এই মডেলের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দুটি ব্র্যান্ডের স্বতন্ত্র পরিচিতি বজায় রাখা, রুট পরিকল্পনায় ভারসাম্য আনা, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান ধরে রাখা সবই কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচালিত হলে একই মালিকানার একাধিক এয়ারলাইনস পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বরং একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রার কার্যক্রমও সেই মডেলের বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

  • ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
  • এয়ার আস্ট্রা