যুক্তরাজ্যে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন প্রবেশ নিয়ম আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হচ্ছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকরা তাদের বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না, যদি তাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা “সার্টিফিকেট অব এনটাইটলমেন্ট” না থাকে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দ্বৈত নাগরিক এমন দেশের নাগরিক, যাদের জন্য যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রয়োজন হয় না, তারা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দেশে প্রবেশ করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা নতুন ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।
জেলেনা নামে এক ব্রিটিশ-লাতভীয় নাগরিকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছে নতুন বিধির প্রভাব। তিনি ১৬ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নতুন নিয়মের কারণে দক্ষিণ আমেরিকায় ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরার পথে প্রবেশে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। জেলেনা জানান, পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন এখনই করতে পারছেন না এবং সময়মতো তা পেলে যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারবেন কি না নিশ্চিত নয়।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, নতুন নিয়ম অভিবাসন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজ করার অংশ। তবে সমালোচকেরা দাবি করছেন, যথাযথ তথ্য প্রচার না হওয়ায় বহু দ্বৈত নাগরিক হঠাৎ করে নতুন নথির জন্য আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নতুন নথি পাওয়া সহজ নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্কের ব্রিটিশ পাসপোর্টের খরচ প্রায় ১০০ পাউন্ড, আর সার্টিফিকেট অব এনটাইটলমেন্টের জন্য খরচ ৫৮৯ পাউন্ড। নতুন ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সিস্টেমের আওতায় যেসব ভিসা মুক্ত পর্যটকরা যুক্তরাজ্যে যেতে চাইবেন, তাদের ১৬ পাউন্ড ফি দিতে হবে। দ্বৈত নাগরিকরা এ জন্য আবেদন করতে পারবে না।
নিয়মের প্রভাব নরওয়েজীয়, জার্মান ও সুইস দ্বৈত নাগরিকদের মধ্যেও দেখা গেছে। তারা জানান, অনিয়মিত তথ্য ও সময়ের সীমার কারণে বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট না থাকলে দেশে ফিরতে ঝুঁকি রয়েছে।
এ ব্যাপারে ‘দ্য থ্রিমিলিয়ন’ নামের সংগঠন সরকারের তথ্য প্রচারের অপ্রতুলতার দিকে ইঙ্গিত করেছে। সংগঠনটির প্রধান মনিক হকিন্স হোম অফিসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে নথি না থাকা দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্বল্পমূল্যের এককালীন ভ্রমণ অনুমোদন চালু করা হোক।
হোম অফিসের মুখপাত্র জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই নথি সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং ইটিএ চালু নিয়ে ২০২৩ সাল থেকে প্রচার চলছে। নতুন নিয়ম সব ব্রিটিশ নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, অন্য কোনো নাগরিকত্ব থাকুক বা না থাকুক।
