জেদ্দা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি ৩১০৪-এর যাত্রীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি’ হওয়ার দাবির পর পরিচালিত অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হাজি নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। পরে একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং টিম তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি রাত ২টা ৫২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ‘চকস-অন’ হয়। মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগ যাত্রীদের জন্য ডেলিভারি বেল্টে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং ৫৯ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি লাগেজ সরবরাহ সম্পন্ন করা হয়।
তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রাউন্ড স্টাফদের বডি-অর্ন ক্যামেরার ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, উড়োজাহাজ থেকে নামানোর সময় প্রায় ২১টি ব্যাগ আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকায় লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের সময় কোনো ধরনের কাটা, ছেঁড়া বা চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিমানের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখার তথ্য অনুযায়ী, ৮৩৬টি ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী মৌখিকভাবে তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়ার কথা জানান। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাগগুলোতে জমজমের পানি, খেজুর এবং বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রী ছিল। মূল্যবান কোনো সামগ্রী খোয়া যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শুধু একজন যাত্রী একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাগের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ (প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট-পিআইআর) দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলেও কোনো যাত্রী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা সঠিকভাবে সিলগালা না করা তরল প্রসাধনসামগ্রী বহন করা যায় না। স্ক্যানিংয়ের সময় এ ধরনের বস্তু শনাক্ত হলে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুসারে লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ চেকড ব্যাগেজে বহন করাও নিরুৎসাহিত ও বিধিবহির্ভূত।
সবশেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিজি ৩১০৪- ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ ঢাকায় মিসহ্যান্ডলিং, কাটা বা চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি’ হওয়ার দাবিটি সত্য নয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
