ভারত আউট পাকিস্তান ইন?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট। এর ফলে ভারতের উপর নির্ভরতা কমতে চলেছে বাংলাদেশের।

এতদিন বাংলাদেশি যাত্রীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণের জন্য কলকাতা বা দিল্লিমুখী থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রবণতায় স্পষ্ট ভাঙন দেখা যাচ্ছে। ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় এবং দীর্ঘ অপেক্ষা ও রিজেকশনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ফলে মানুষ এখন বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছে। ঠিক এমন সময়েই দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও চালু হচ্ছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট। যা আঞ্চলিক এভিয়েশন বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের ভিসা জটিলতা। চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা পর্যটন সব ক্ষেত্রেই ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এতে বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে ভারতমুখী নির্ভরতা কমানোর মনোভাব জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, ভারতীয় কোনো বিমান তাদের আকাশ ব্যবহার করতে পারবে না এবং এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যে যেতে হলে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুদিন বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। সূচি অনুযায়ী ঢাকা থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে করাচি পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফিরতি পথে করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ঢাকা থেকে করাচি যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এতদিন এই রুটে যাত্রীদের দুবাই, দোহা কিংবা কলম্বো হয়ে দীর্ঘ সময় ও বাড়তি খরচে যাতায়াত করতে হতো।

অনেক অনিশ্চয়তা থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে থেকেই কার্যকর থাকা ‘দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিষেবা চুক্তি’র কারণে ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে বড় কোনো আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা নেই। চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ একে অপরের আকাশসীমা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ব্যবহার করতে পারে। ফলে ভারতের আকাশ ব্যবহার করেই পাকিস্তানে যাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

ব্যবসায়ীরা বলছে, এই নতুন রুট চালু হলে পোশাক শিল্প, পাট এবং অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ভারতের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে করাচি থেকে সরাসরি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রামে আসার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে যা ১৯৭১ সালের পর প্রথম। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আকাশপথ উন্মুক্ত হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া মানে শুধু যাত্রী পরিবহন নয় এটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘পিপল টু পিপল কন্টাক্ট’ বাড়াবে। পাকিস্তানি ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের কথাও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের ভিসা জটিলতায় বিরক্ত মানুষ যদি বিকল্প গন্তব্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তা ভারতীয় মেডিকেল ট্যুরিজম ও শপিং মার্কেটের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

ঢাকা থেকে করাচির এই সরাসরি উড়াল দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথ ও রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকা-করাচি ফ্লাইট