বিমানের কারিগরি ত্রুটি পর্যালোচনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কয়েকটি ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর যাত্রী সুরক্ষা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠনসহ জনবল ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে পরিবর্তন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ দপ্তরের মহাব্যবস্থাপক এ, বি, এম, রওশন কবীর স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ঢাকা–আবুধাবি ফ্লাইটে টয়লেটের ফ্লাশ সম্পর্কিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ০১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কারিগরি সমস্যাগুলো পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ফ্লাইটভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড ও অপারেশনাল প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাফিলতি থাকলে তা নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেবে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে জনবল পরিবর্তন করা হয়েছে। দুইজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, আরও কয়েকজনকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে কর্মরত এক প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি ও শারজাহসহ বিভিন্ন আউটস্টেশনে অতিরিক্ত চাকা মজুদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিস্থাপন করা যায়। ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় চাকা ক্রয়ের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেদ্দায় বিমানের চাকা ফেটে যাওয়ার ঘটনায় পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশনস) কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সরাসরি সুপারভিশন জোরদার করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে বিশেষ রাত্রিকালীন রক্ষণাবেক্ষণ শিফট চালু করা হয়েছে, যা সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তত্ত্বাবধানে সহায়ক হবে।

একই সঙ্গে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা চলছে। বোয়িং-এর সঙ্গে আলোচনা করে কম্পোনেন্ট সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (সিএসপি) তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিকমেন্ডেড স্পেয়ার পার্টস লিস্ট (আরএসএলপি) অনুসারে যন্ত্রাংশের মজুদ পুনর্নির্ধারণ এবং প্রকৃত ব্যবহারিক তথ্যের ভিত্তিতে টেইলরড পার্ট প্যাকেজ (টিপিপি) ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে প্রকৌশলীদের রি-কারেন্ট প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন অ্যাপ্রেন্টিস মেকানিক নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত জনবল বাড়িয়ে নিজস্ব দক্ষতা আরও জোরদার করা হবে।

যাত্রীসুরক্ষা ও আস্থা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় বিমান।

 

 

  • কারিগরি ত্রুটি
  • তদন্ত কমিটি
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স